ইহুদিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম লেখক : সাইয়েদ কুতুব শহীদ
ইহুদিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম লেখক : সাইয়েদ কুতুব শহীদ
তুফানুল আকসা’র পরবর্তী সময়ে হামাসের মুখপাত্র আবু উবায়দা যখন ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামকে জিহাদ বলে আখ্যা দিলেন তখন এই জিহাদের সাথে সারা দুনিয়ার সকল মত ও পথের মানুষ সংহতি প্রকাশ করে। জুলুমের বিরুদ্ধে এই জিহাদ একটি গ্লোবাল ফেনোমেনা হিসেবে আবির্ভূত হয়।
‘ইহুদিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম’ বইতে সাইয়েদ কুতুব শহীদ রহ. এই পথনির্দেশই দিয়েছিলেন বহু বছর আগে। তার স্বভাবসুলভ দূরদর্শিতায় তিনি মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত সংকটটি আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিনি বলছেন, এই সংগ্রামে বিজয়ের একমাত্র পথ ইমান আর জিহাদ। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার, নিজেদের শেকড়ে ফিরে যাওয়ার। না হয় নিপীড়নবাদী ইহুদিবাবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর অত্যাচার থেকে সবুজ ও সুন্দর এই পৃথিবীকে কখনোই মুক্ত করা যাবে না। জুলুমের বিরুদ্ধে জিহাদের গ্লোবাল ফেনোমেনাকে বাস্তবায়ন করা যাবে না।
কুতুব রহ. আরও দেখিয়েছেন, অতীত থেকে বর্তমান—ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ থেকে আধুনিক আমেরিকা আর রাশিয়ার রাজনৈতিক মঞ্চ—সবখানেই ইহুদিরা ইসলামের শেকড়ে আঘাত হেনেছে, মুসলিম উম্মাহকে দুর্বল করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র বুনে চলেছে। এই হীন সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র ভেঙে ফেলতে হলে কী করতে হবে? সাইয়েদ কুতুব রহ. তার উত্তর দিয়েছেন—একটা দৃঢ় কর্মপন্থা, যেখানে ঐক্য আর সংগ্রামই একমাত্র অস্ত্র।
লেখক পরিচিতি: সাইয়েদ কুতুব রহ. ছিলেন এক সাহসী চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক ও বিপ্লবী নেতা, যার চিন্তা আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আলোড়িত করে। ১৯০৬ সালে মিশরের উসইউত প্রদেশের মুশা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই মনীষীর শৈশব কেটেছে জ্ঞানের অনুসন্ধানে। ছোটবেলাতেই তিনি কুরআন হেফজ করেন, পরে কায়রোর বিখ্যাত মাদ্রাসা দারুল উলুম থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সেখানেই অধ্যাপনা শুরু করেন।
তার লেখনী ছিল প্রখর, চিন্তা ছিল স্পষ্ট, আদর্শ ছিল অবিচল। শিশুদের জন্য নবীদের জীবনী লিখে সাহিত্যিক যাত্রা শুরু করলেও, তার কলম ইসলামি সমাজব্যবস্থা ও দর্শনের গভীরে প্রবেশ করে। তার কালজয়ী তাফসিরগ্রন্থ “ফি জিলালিল কুরআন”-এ তিনি ইসলামের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
রাজনৈতিকভাবে তিনি ইখওয়ানুল মুসলিমিনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং সংগঠনের মুখপত্রের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তার আদর্শ ও সংগ্রাম মিশরীয় স্বৈরশাসকদের বিরাগভাজন হয়। ১৯৫৪ সালে তিনি গ্রেফতার হন, দীর্ঘদিন কারাবাসে নির্যাতিত হন, অবশেষে ১৯৬৬ সালে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে সত্যের পথে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন।
তার চিন্তা, আদর্শ ও শহীদি আত্মত্যাগ আজও ইসলামী জাগরণের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। তার লেখা কোটি মানুষের হৃদয়ে নতুন চেতনার স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে চলছে।
Product features
Product features
Materials and care
Materials and care
Merchandising tips
Merchandising tips
Share
