প্রণয়ে তুমি প্রার্থনা হও - সাদাত হোসাইন - (হার্ডকভার)
প্রণয়ে তুমি প্রার্থনা হও - সাদাত হোসাইন - (হার্ডকভার)
কবিতার প্রতি আমার বিশেষ পক্ষপাত কিংবা দুর্বলতা নেই, যতটা আছে গল্প বা উপন্যাসের প্রতি। এ কথা শুনে আমার পাঠকরা খানিক রুষ্ট হতে পারেন। কারণ তারা অতি আগ্রহ নিয়ে আমার এই সব ছাইপাশ কবিতা পড়েন। তাঁদের নােটবুক, ডায়েরিতে টুকে রাখেন। প্রিয়তম মানুষকে আবৃত্তি করে শােনান। তাঁদের খাতায়, ফেসবুকে, ছবিতে, রাস্তার পাশের দেয়ালে, খেয়ালে লিখে রাখেন। এসব দেখে আমি বিস্মিত হই। যা এমন অবহেলায়, উপেক্ষায় ফেসবুকের পােস্ট থেকে বই হয় কেবল নথিবদ্ধ করে রাখার উদ্দেশ্যে, তা কী করে এমন অসংখ্য মানুষের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার কাব্য হয়ে ওঠে! বিষয়টা আমাকে বিস্মিত করে।
মন খারাপের কোনাে বিষন্ন সন্ধ্যায় কিংবা অলস দুপুর কিংবা নিঘুম রাত্রিতে চট করে বুকের ভেতর থেকে যে হাহাকারের দীর্ঘশ্বাস, আনন্দের তুমুল উদ্যাপন শব্দে-বাক্যে প্রকাশিত হয় তা কী করে এভাবে অজস্র মানুষের অনুভূতির স্পন্দন হয়ে ওঠে!<br>
সেবার এক মেডিকেল কলেজে গিয়ে দেখি দেয়ালজুড়ে লেখা- আমাকে হারাতে দিলে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিতে ছেয়ে যাবে তােমার শহর...'।
কলকাতার এক তরুণীকে দেখেছিলাম তার শাড়িজুড়ে লিখে আনতে, “শােনাে কাজল চোখের মেয়ে, আমার দিবস কাটে বিবশ হয়ে তােমার চোখে চেয়ে...
এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। যা দেখে চমকে গেছি। বুঝতে পেরেছি, এই লেখাগুলাে আমার অনাদর পেয়েই যেন কোনাে এক অগােচরে অভিমানে পৌঁছে গেছে অসংখ্য মানুষের আদুরে হৃদয়ের অন্দরমহলে। এ এক অদ্ভুত ব্যাপারই বটে! আনন্দময়ও।
সম্ভবত এই আনন্দটুকুর জন্যই এই লেখা, এই বই। এর বেশি কিছু চাওয়া নেই আমার। লেখার এই আনন্দটুকুই না হয় প্রাপ্তি হয়ে থাক।
বি.দ্র. ভূমিকার ছাইপাশ’ শব্দ নিয়ে আমার এক শুভাকাঙ্ক্ষী আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিজের লেখা নিয়ে নাকি এমন তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা ঠিক নয়। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা উচিত অন্যের লেখা নিয়ে। এটাই নাকি এই সময়ের ট্রেন্ড! অনেক ভেবে দেখলাম, তার কথা সত্য। আজকাল প্রায় সকলেই নিজের লেখা কিংবা নিজেকে ভাবেন কালজয়ী। আর অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য। আমারও তাই করা উচিত। কিন্তু করতে গিয়ে দেখলাম, আমার এই ভুল পথ চলাতেই আনন্দ...'
Product features
Product features
Materials and care
Materials and care
Merchandising tips
Merchandising tips
Share
