মেগাস্থেনীসের ভারত বিবরণ - শ্রীরজনীকান্ত গুহ - (হার্ডকভার)
মেগাস্থেনীসের ভারত বিবরণ - শ্রীরজনীকান্ত গুহ - (হার্ডকভার)
Couldn't load pickup availability
ভূমিকা
প্রথম অধ্যায়
মেগাস্থেনীসের পূর্বে ভারতবর্ষ সম্বন্ধে গ্রিকদিগের জ্ঞান
অলিম্পিক-অব্দ গণনার প্রারম্ভে কালে (খ্রি. পৃ. অষ্টম শতাব্দীতে) উপনিবেশসমূহের ইতিহাস হইতে গ্রিকগণ পৃথিবী সম্বন্ধে যে জ্ঞান লাভ করে, তৎপূর্ববর্তী মহাকাব্য যুগের জ্ঞান হইতে তাহা সম্পূর্ণ বিভিন্ন ছিল। কারণ, হোমর প্রভৃতি মহাকবিগণ কাব্যবর্ণিত ঘটনা ও স্থানসমূহ স্বীয় সৌন্দর্য বোধের উপযোগী করিয়া রচনা করিতেন; সুতরাং তাঁহাদের বর্ণিত বিষয়সমূহের কতকগুলো অপ্রকৃত বর্ণে অনুরঞ্জিত, কতকগুলো কল্পিত, এবং অপর কতকগুলো তাঁহাদিগের জীবনকালে অজ্ঞাত না হইলেও কাব্যোল্লিখিত উপাখ্যানের সহিত সংশ্রবরহিত বলিয়া পরিত্যক্ত হইয়াছে। এই জন্যই দেখিতে পাই যে, যদিও হোমরের সময়ে গ্রিকগণ ভারতবর্ষ সম্বন্ধে একেবারে অজ্ঞ ছিল না, তথাপি, মহাকবিগণ উহার উল্লেখ করিয়াছেন কি না, অথবা উল্লেখ করিলেও তাঁহারা যতদূর জানিতেন, ততদূর বর্ণনা করিয়াছেন কি না, সন্দেহের বিষয়। হোমর 'অভীসী' নামক মহাকাব্যের প্রথম সর্গে ভারতবর্ষ সম্বন্ধে অতি সামান্যভাবে অস্পষ্টরূপে এই কয়েকটি কথা বলিয়াছেন:
"পৃথিবীর প্রান্তদেশবাসী ইথিয়োপীয়েরা, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, এই দুই ভাগে বিভক্ত।"' সুতরাং দেখা যাইতেছে, 'ইন্ডিয়া' (ভারতবর্ষ) এই নামটিও হোমরের বহুযুগ পরে ব্যবহৃত হইতে আরম্ভ হইয়াছে।
কিন্তু পঞ্চাশৎ হইতে যষ্টি অলিম্পিক অব্দে (খ্রি. পূ. ষষ্ঠ শতাব্দীতে) গ্রিকদিগের জ্ঞানালোচনা ও সাহিত্য চর্চা সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হইয়া যায়। এই সময়ে কাব্যের অবনতি আরম্ভ হয়, কিন্তু গভীর মনোনিবেশ সহকারে বিশ্বতত্ত্বের অনুসন্ধান ও আলোচনার সূত্রপাত হয়-কবিদিগের নিকট অজ্ঞাত না হইলেও উহা পরিহাসের বিষয় ছিল। কিন্তু গ্রন্থকারগণ কাব্যালোচনা ত্যাগ করিলেও প্রাচীন কাব্যকল্পিত বিষয়সমূহ বিশ্বাস করিতে বিরত হইলেন না; তাঁহাদিগের মধ্যে অতীতের প্রতি অনুরাগ ও একপ্রকার কল্পনা-প্রিয়তা রহিয়া
মেগাস্থেনীসের ভারত বিবরণ ৯
Share
