ঘর কিংবা ঘোর - তকিব তৌফিক - (হার্ডকভার)
ঘর কিংবা ঘোর - তকিব তৌফিক - (হার্ডকভার)
নসর আলি চোখের জল মুছে কিছুটা স্থির হয়ে বললেন, ‘আমার অভাব ভালোবাসার, আমার অভাব আন্তরিকতার। টাকা পয়সা, থাকা খাওয়া এসব দিলে খাই না দিলে সয়ে যাই। এ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। জীবনে একটা সময় আসে যখন মানুষের সব থেকেও কিছুই থাকে না। এসব নিয়ে মন খারাপ করি না। কিন্তু ছেলেটা কেমন জানি হয়ে গেছে। চলতে ফিরতে খারাপ আচরণ করে, গাল মন্দ করে। ভালোভাবে কবে আব্বা ডেকেছে তা হয়তো তার মনেই নেই। আহারে ছেলে আমার, কী সুন্দর করে আব্বা করে আমাকে ডাকত। এখন আর আব্বা ডাকে না’।
মশিউর রহমান চুপ করে রইলেন। এসবের উত্তর তার কাছে নেই, কিছু কথার কোনো প্রত্যুত্তর থাকে না। স্বান্তনার ভাষাও নেই। শুনে যাওয়াটাই শ্রেয়। নসর আলি আবার বললেন, তবে এখন কষ্টটা অনেক কম পাই। ‘আশিকের মা বেঁচে থাকাকালীন বেশি কষ্ট পেতাম। বেচারি সন্তানটাকে কত আদর যত্নে বড় করেছে কিন্তু দিন দিন খারাপ আচরণের বুলি সহ্য করতে না পেরে ঘুমের মধ্যেই দুনিয়া ছেড়েছে। সে দুনিয়া ছেড়ে গিয়ে মুক্তিই পেয়েছে। আমি নিজের কষ্টের চেয়ে তার কষ্টগুলো দেখে বেশি আঘাত পেতাম। কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারিনি। যতবারই প্রতিবাদ করেছিলাম, ততবারই ছেলে আমার দিকে তেড়ে এসেছিল। আমি পরাস্ত হয়েছি। ছেলের হাতে মার খাওয়াকে ভয় পেয়েছি। যাক আশিকের মা এখন শান্তিতে আছে, আমারও অনেক কষ্ট কমে গেছে। আমার ছেলেটাও ভালো থাকুক, আমার খোকা আশিক খুব ভাল থাকুক’, বলতে বলতে চোখ মুছলেন নসর আলী।
Product features
Product features
Materials and care
Materials and care
Merchandising tips
Merchandising tips
Share
